সাফল্যের গল্প

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন আমাদের রেজাউর

গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত | প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:০০; আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:০৬

বাংলাদেশের ছেলে স্কটল্যান্ড প্রবাসী রেজাউর রহমান

প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা এবং কর্মের সন্ধানে পাড়ি জমায় 5 হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ অভিবাসীর জীবনের গল্প প্রাই এই রকম। নতুন জায়গা, সবই অচেনা, নতুন কালচার, অভিবাসীদের সাথে স্থানীয়রা মিশতে চায়না, নিজের ইংরেজীর জ্ঞানসহ নানান সীমাবদ্ধতাও তখন চোখে পড়তে শুরু করে। মনের কথা বলার জন্য একজন বন্ধুও থাকে না এসব কারণে বাঙালি অভিবাসীরা প্রথম মাসেই ঘাবড়ে যায় এবং হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছরের মধ্যেই 50 শতাংশ পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কাজ করতে গেলে যোগ্যতার চেয়ে নিম্নমানের কাজ জোটে। যে ছেলেটা বাংলাদেশ থাকতে খাওয়ার পরে নিজের পেলেটটাও কোন দিন ধুয়ে রাখে নি। তাকে এখানে এসে হোটেলের বাসন মাজার কাজ করতে হয় অথবা তার থেকেও নিম্নমানের কোন কাজ করতে হয়। 

সাফল্যের পরে হয়তো এমন গল্প শুনতে সবার ভালই লাগে। কিন্তু যখন এই কাজগুলো করতে হয় এবং নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকে তখন কোনভাবেই মানসিক শক্তি পাওয়া যায় না। সব ছেড়েছুড়ে দেশে ফিরে যাওয়া, আত্মহত্যা করা এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু কম নয়। কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশের ছেলে স্কটল্যান্ড প্রবাসী রেজাউর রহমান।

 

আমার বেলাতেও এই যাত্রাটা অতোটা সহজ ছিলনা; বললেন, রেজাউর। ছিল আর্থনীতিক টানাপোড়ন, ইরেজীর দুরবলতা। নানান সমস্যা সমাধান করতে করতে স্কটল্যান্ডের পৌঁছায় ২০১০ সালে। সেখানে গিয়ে শুরু হয় আরো হাজারটা সমস্যা। নতুন কালচারে সঙ্গে এডজাস্ট না করতে পারা, মনের কথা বলার জন্য একজন বন্ধুও না থাকা। একবছর পড়াশোনা করার পর পরতে হয় অর্থনৈতিক সংকটে। এরপর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যায়। এবার মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন রেজাউর। কোন আশার আলো না দেখে দেশে ফিরে আসবেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। এমন সময় প্রফেসর মার্ক উইলিয়ামস এর মাইন্ডফুলনেস ক্লাসে জয়েন্ট করেন রেজাউর। এরপর সে ফিরে পায় মানসিক শক্তি।

সব কিছু শুরু করে নতুন উদ্যমে। মেন্টাল হেল্থ এবং ফিজিক্যালি সাপোর্ট বিষয়ে এমএসসি সম্পূর্ণ করেন কুয়িং কুয়িং মার্গারেট ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে মেন্টাল হেল্থ নিয়ে পিএইচডি করছেন ইউনিভার্সিটি ওফ স্টারলিং এ।

নিজের মত এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আর কাউকেই তিনি যেতে দিতে চান না। তাই অভিবাসীদের এই সব সমস্যার সমাধান নিয়েই এখন কাজ করছে রেজাউর। ২০২০ সালে Wellbeing Nest For Us নন-প্রফিট অরগানাইজেশন চালু করেন। 

রেজাউর মূলত একটা পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে একজন মানুষ সমস্যার কথা মন খুলে জানাতে পারবে এবং সমাধান পেতে পারবে। মানসিক ভাবে শক্ত থাকলে আমরা সকল কাজ সুন্দর ভাবে গুছিয়ে করতে পারি। এটা পরীক্ষিত সত্য। রেজাউর মূলত মানসিক ভাবে যেন এক জন মানুষ সুস্থ থাকতে পারে সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেন মানুষকে। তিনি জানায়; প্রথমত মানসিক উন্নতি ঘটানোর বাহিরে তাদের পরিকল্পনা একজন ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করা, ইমিগ্রেশন সার্পোট দেওয়া সহ এমন একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা যার মাধ্যেমে এ পরিবেশে আমার মতো যারা বিভিন্ন দেশ থেকে এদেশে এসেছে তাদের ভাগ্যের উন্নতি করতে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। রেজাউর তার শিক্ষক ড. করিম গ্রিসলি এড্যামস এর সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগটা সম্পর্কে। শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে, জানায় রেজাউর। 

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সাঙ্গে রেজাউর

যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে সকল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনলাইনে। সারা বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে। গত একবছর একশোর অধিক সেশন সম্পূর্ণ হয়েছে। চারশোর অধিক অভিবাসী যুক্ত হয়েছে সেশন গুলোতে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রফেশনাল ট্রেইনার করাচ্ছে এই সেশনগুলো। ইয়োগা, আর্ট থেরাপি ওপরে সপ্তাহে দু'টো অনলাইন সেশন নেওয়া হচ্ছে বর্তমানে। এছাড়া কলের মাধ্যমে ওয়ান টু ওয়ান এবং ওয়েবসাইটে চ্যাট লাইনে সমস্যার কথা জানাতে পারছে অভিবাসীরা। আগষ্টে মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ কলে জানায় উদ্যোগের পিছনের মানুষ রেজাউর রহমান। ভবিষ্যতে শুধু স্কটল্যান্ডে নয় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চায় এই উদ্যোগটি যাতে অভিবাসীরা মানসিক ভাবে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর

যোগাযোগ: বাসা- বি-৬২ (৩য় তলা) , রোড: ৩, ব্লক: বি, নিকেতন, গুলশান-১, ঢাকা-১২১৩

মোবাইল : ০১৭১৯০২৩৮০৩

ইমেইল : extraprbd@gmail.com

Developed with by
Top