মনের কথা - পরিষ্কার করুন! কারণ, গোপন কথাটি শেষ পর্যন্ত গোপন থাকে না!

জোবায়ের রুবেল | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:৪২; আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:৫২

মনের কথা - পরিষ্কার করুন!

কারণ, গোপন কথাটি শেষ পর্যন্ত গোপন থাকে না!

‘‘(হে রাসুল) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, আল্লাহ সে সবই জানতে পারেন।’’ সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৯।

                 ---

 পবিত্রতা দ্বীনের ভিত্তি: আয়েশা () থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ () বলেন, ‘‘ইসলাম পরিচ্ছন্ন। সুতরাং তোমরা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করো। নিশ্চয়ই জান্নাতে কেবল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিই প্রবেশ করবে।’’ ফাইজুল কাদির, হাদিস: ৩০৬৫।

পবিত্রতা নামাজ কবুলের পূর্বশর্ত: পবিত্রতা নামাজ কবুলের পূর্বশর্ত। পবিত্র শরীর কাপড় ছাড়া ব্যক্তির নামাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ () বলেন, ‘‘পবিত্রতা নামাজের চাবি।’’  সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৭৬।

পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক: আবু মালেক আশআরি () থেকে বর্ণিত, রাসুল () বলেছেন, ‘‘পবিত্রতা (পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা) ঈমানের অর্ধেক অংশ।’’ সহি মুসলিম।

(অনেক আলেম ব্যক্তি এবং ফতোয়া এক্সপার্টরা পবিত্রতার পূর্বশর্ত হিসেবে শরীরে এবং মনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা বলেছেন। অনেকে পবিত্রতাকে চারটি স্তরে বিন্যস্তও করেছেন। যেমন: . পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে অপবিত্র, নোংরা অরুচিকর বিষয় থেকে পবিত্র করা। . অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পাপমুক্ত করা: শরীরের অঙ্গগুলোর মাধ্যমে যেসব পাপ অন্যায় হয় তা থেকে বিরত থাকা। . মনকে পবিত্র করা: কুপ্রবৃত্তি মন্দ স্বভাব থেকে নিজের মনকে পবিত্র রাখা। . নিজেকে গাইরুল্লাহ মুক্ত করা: আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে সব কিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পণ করার মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি চূড়ান্ত পবিত্রতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।)

এবার আপনার কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, ‘আপনার চিন্তাভাবনাগুলো (মন/মনের কথা) কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন (পবিত্র)?’

আমি জানি আপনি শরীর, পোশাক ঘড়-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা সব সময় করছেন। কোভিড ১৯-এর হাত থেকে বাঁচতে আপনি নিয়ে আরও সচেতন হয়ে উঠেছেন। তাই বাইরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আমার আলোচনার বিষয় নয়। সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পবিত্র করা এবং নিজেকে গাইরুল্লাহমুক্ত করাও আজ আমার আলোচনার বিষয় নয়। এখানে কেবল কথা বলতে চাই মন তার চিন্তা ভাবনার পরিষ্কার-পরিছন্নতা (পবিত্রতা) নিয়ে।

আপনার মন কতটা পরিষ্কার? এটা আপনার দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবন প্রোডাক্টিভিটি হ্যাপিনেসের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। কিভাবে?

আপনার মনে যদি অহংকার না থাকে, হিংসা না থাকে, ইগো না থাকে, ঈর্ষা না থাকে, বদ মতলব না থাকে, লোক ঠকানোর ইচ্ছে না থাকে, অন্যের সম্পদে লোভ না থকে, অন্যের স্ত্রীর প্রতি প্রেমের আকর্ষণ না থাকে, মনে মনে অন্যকে গালি না দেন, যদি মানুষের জন্য মনে ভালোবাসা থাকে, আল্লাহ রাসুল ()-এর প্রতি ঈমান থাকে, আল্লাহর যে কোনো ধরনের ফয়সালা মেনে নেওয়ার ইচ্ছে থাকে, সব সময় লার্নিংয়ের আগ্রহ থাকে, আপনার দুনিয়ার জীবন আখেরাতের জীবন শতভাগ সফল হবে, হ্যাপি হবে- এটা আমি আশা করতে পারি। এই আশা করার জন্য, ফতোয়া  দিতে পারে এমন কোনো আলেমের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন দেখি না। কারণ, ব্যাপারে কোরআন সাক্ষ্য দেয় যে,

‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা) অর্জনকারীদের।’’ সুরা বাকারা, আয়াত ২২২।

যে আল্লাহর ভালোবাসা পায় তার ইহকাল-পরকাল শান্তিময় সফল হবে ব্যাপারে আরো যুক্তি বইয়ের পরবর্তী অংশে পাবেন ইনশাল্লাহ। তাই এখন আর আলোচনা করছি না। কেবল এইটুক বলে রাখতে চাই, আল্লাহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকেই পবিত্রতা বলেছেন। (উল্লেখ্য, লেখাটি আমার ‘প্রোডাক্টিভ হ্যাপিনেস উইথ ইমলাম’ বই থেকে নেয়া)

অপরদিকে যার মনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নেই তার আসলে ঈমানের অর্ধেক- নেই। আবার সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২ অনুযায়ী সে ব্যাক্তি আল্লাহর ভালোবাসা থেকেও বঞ্চিত। তাহলে ওই ব্যক্তি কী করে প্রোডাক্টিভ হ্যাপি জীবন আশা করতে পারে?

মন পরিষ্কার বা পবিত্র না হলে আপনার নামাজ নাও কবুল হতে পারে। কেবল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আপনার মন পবিত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন না হলে আপনি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন? হা হা হা... মন পরিষ্কার বলতে আপনি মনে মনে কি চিন্তা করেন সেটার ব্যাপারে বলছি।

 

তাই বলছি, মনের সুচিন্তা আমাদের হ্যাপিনেসের প্রোডাক্টিভিটির জন্য খুব জরুরী। চিন্তার পবিত্রতাই আমাদের আল্লাহর ভালোবাসা পেতে সাহায্য করে। আল্লাহ আমাদের মনের গোপন কথাটিও জানেন। তাই চিন্তার ব্যাপারে সাবধান হোন। মনে রাখবেন, দুই কাঁধে দুই মুহুরী লিখতে আছেন ডায়েরি। তারা আপনার মনের কথাও লেখেন।  

 

মনের কথা (চিন্তার) আপনার উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে বিষয়ে জেমস অ্যালেনের একটি অসাধারণ কবিতা আছে, যার সারমর্ম হচ্ছে, সুচিন্তা সু-ফল দেয়, কুচিন্তা কু-ফল দেয় এই কবিতাটি আমার খুব পছন্দ, তাই আপনাদের সাথে শেযার করছি।

 

মনের ভাবনা আমাদের তৈরি করেছে

আজ আমরা যা

যেমনটি চিন্তা করছি, ঠিক তেমনটি।

 

এই অসাধারন কবিতাটি রয়েছে তারঅ্যাস অ্যা ম্যান থিংকসনামের বইটিতে। এর পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় তিনি বলতে চেয়েছেনমানুষ যা ভাবে, সে ঠিক তাই।আমি এটা বিশ্বাস করি যে, মানুষ তার ভাবনার সম্মিলনে তার চরিত্রকে তৈরী করে। তিনি যথার্থই বলেছেন, বীজ ছাড়া যেমন কোনো চারা হতে পারে না, তেমনি মানুষের প্রতিটি ভাবনা হল সেই বীজের মতো।

 

যদি মানুষের মনে

ভুল চিন্তা আসে

কষ্ট এসে পড়ে ঠিক যেভাবে

ষাঁড়ের পিছনে চাকা আসে …!

ষাঁড় যখন গাড়ি নিয়ে দৌড়ায় চাকা তার সাথে সাথে যায়। এটাই নিয়ম। যেমন সে কাজ করবে তেমন ফল তাকে অনুসরন করবে। তিনি ঠিকই বলেছেন, 'কাজ বা ব্যবহার হলো ভাবনার প্রকাশ আর আনন্দ কষ্ট হল এর ফল।

মানুষ যা চায়, তাকে আকর্ষণ করে না, বরং সে নিজে যা, তাকেই আকর্ষণ করে।ব্যপারটা হচ্ছে এমন- আপনি যা চান আপনি যদি নিজেকে সেরকম ভাবে তৈরী করতে পারেন তবে আপনি সেটা পাবেন। তাই কবিতার পরের লাইনে তিনি শুদ্ধ ভাবনা ধারণ করার কথা বলেছেন।

 

যদি কেউ ধারণ করে

ভাবনার শুদ্ধতা

আনন্দ তাকে অনুসরণ করবে

নিজের ছায়ার মত- নিশ্চিতভাবে।

 

জীবনে আপনি যা কিছু করেন বা করেন না, তার সবটুকুই প্রত্যক্ষ ভাবে আপনার চিন্তারই ফলাফল। চিন্তাকে গোপন কিছু ভাববেন না; আপনার আচার ব্যবহার হচ্ছে গোপন চিন্তার প্রকাশ্য রূপ।

চিন্তাকে খুব ছোট কিছুও ভাববেন না। কারণ, আপনি যেমন চিন্তা করেন আপনি একদিন তেমনই হয়ে উঠবেন। মনের একান্ত গোপন চিন্তা ভাবনাগুলোই আপনার সংস্কার চরিত্রকে তৈরী করে, আপনাকে ভালো বা খারাপ হিসেবে তৈরী করে।

 

কেবল কাজ আপনাকে সফল্য এনে দিতে পারে না। সাথে দরকার শুদ্ধ সঠিক চিন্তা। তবেই আপনি সফল হতে পারবেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীতে আসলে সাফল্য বা ব্যার্থতা বলেই কিছুই নেই। ওসব থাকে কেবল আপনার চিন্তাভাবনায়। বাস্তবে আপনি সুখী বা দুঃখীও হতে পারবেন না। ওটা কেবলই আপনার কল্পনা। কেউ আপনাকে সুখী বা দুঃখীও করতে পারে না। সুখ/দুঃখ আপনার চিন্তার ক্রিয়েশন। আপনি কেমন ক্রিয়েটর সেটা তার উপর নির্ভর করে।

যেমন: গতকাল আর আগামীকাল; আপনার কল্পনা (চিন্তাভাবনা) ছাড়া কোথাও এর অস্তিত্ব নেই। আপনার কল্পনাই আপনাকে সুখী বা দুঃখী মানুষে পরিণত করে। সুখ আপনার সুস্থ চিন্তার ফল আর দুঃখ নিয়ন্ত্রণবিহীন চিন্তার ফল। পুণ্যে আপনার জন্য আনে সুখ আর পাপে আনে দুঃখ।

কথায় বলে, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।

প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি নিজেকে কেমন সঙ্গ দিচ্ছেন। আপনি কিন্তু একদিন তেমনই হবেন। এখনই একবার খেয়াল করে দেখুন, নিজের সাথে নিজেই কি নিয়ে আর কি ধরনের কথা বলছেন।

চিন্তাকে যতটা ছোট মনে হয়; আসলে সে অতটা ছোট নয়। আপনার গোপন ছোট্ট একটা চিন্তা আশেপাশের মানুষ এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে <span styl



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর

যোগাযোগ: বাসা- বি-৬২ (৩য় তলা) , রোড: ৩, ব্লক: বি, নিকেতন, গুলশান-১, ঢাকা-১২১৩

মোবাইল : ০১৭১৯০২৩৮০৩

ইমেইল : extraprbd@gmail.com

Developed with by
Top